Sunday , June 20 2021

বিভেদ ভুলে 'জাতীয় ঐক্যের' ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী …- 730008 | কালের কণ্ঠ



বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সামনে আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে মন্তব্য করে বিভেদ ভুলে 'জাতীয় ঐক্য' গড়ে তোলার ডাক দিয়ে বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা.

সংখ্যায় 'কম হলেও' বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ নিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের প্রস্তাব ও সমালোচনার 'যথাযথ মূল্যায়ন' করা হবে.

চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন; 'এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য. বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে. '

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, এই ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি.

'বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি. সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বি শেষে দেশের সকল নাগরিক সমান. আমরা সবার জন্য কাজ করব. সরকারি সেবাখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় জীবনের সর্বত্র আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করব. জাতীয় সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু.

গত 30 ডিসেম্বর একারশ সংসদ নির্বাচনে ২57 টি আসনে জয় পেয়ে ছে আওয়ামী লীগ. জোটগতভাজে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২88 টি. ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ.

অন্যদিকে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে এবারের নির্বাচনে, সব মিলিয়ে তারা পেয়েছে আটটি আসন.

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনে সংসদে না যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি.

শেখ হাসিনা বলেন, 'একাদ' সংসদে বিরোধীদলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম. তবে, সংখ্যা দিয়ে আমরা তাদের বিবেরনা করব না. সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যে কোনো সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব / আলোচনা / সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে. আমি বিরোধীদলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি.

২009 সাল থেকে একটানা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আসা শেখ হাসিনা দুর্নীতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চাররণ করেছেন তার ভাষণে.

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
আমি জানি, দুর্নীতি নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে অস্বস্তি রয়েছে. দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নিজেদের শোধরানোর আহ্বান জানাচ্ছি. আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে করা হবে. আমরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নির্মুল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি. দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি. তাই, গণমাধ্যমের সহায়তায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত থাকবে.

আপনারা দেখেছেন আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই মাদক, জন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছি. এ অভিযান অব্যাহত থাকবে.

আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই. যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না. সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন. সক্তি নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন.

বৈশ্বিক প্রভাবে কিংবা স্থানীয় প্ররোচনায় আমরা কিশু কিছু তরুণকে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে দেখেছি. ইসলাম শান্তির ধর্ম. ইসলামে সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই. আমি সমাজের সকলকে মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি.

ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি. মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করা হচ্ছে. কওমী মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের করা হয়েছে. সারাদেশে 560 টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে.

যারা ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি সবাইকে ধন্যবাদ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা.

তিনি বলেন, 'যারা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ. যারা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোট এবং প্রার্থীক আন্যবাদ জানাচ্ছি.

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি. সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সহযোগিতায় আমরা এ বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি.

সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি. '

আওয়ামী লীগের জয় ছিল প্রত্যাশিত
এবারের প্রত্যাশিত নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপগুলি এ রকমই ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল. লন্ডন-ভিত্তিক ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট এবং রিসার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টারের জরিপের ফল আপনারা লক্ষ্য করেছেন. আমাদের এই ল্যান্ড-স্লাইড বিজয়ের কয়েক টি কারণ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই.

বিগত 10 বর্যার করুন করা প্রায় করুন করুন স্থার সাধারণ মানুষ তার সুফল পেয়েছেন.

দশ বছর আগে যে বালক / বালিকাটি হারিকেন বা কুপির আলোয় পড়া-লেখা করত, গ্রামে পাকা রাস্তা দেখেনি, তরুণ বয়সে সে এখন বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় পড়াশোনা করছে, মোটরযানে যাতায়াত করছে.

যে বয়স্ক পুরুষ-নারী পরিবারে ছিল অবহেলিত-অপাংক্তেয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা তা কে সংসারে সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছে.

গ্রাম বাংলার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উপকারভোগী নয়. প্রার বাংলার খুব কম পরিবারই আছে, যে পরিবার সরকারের কোনো না কোনোভাবে প্রতিটি পরিবার উপকৃত হচ্ছেন.

শেখ হাসিনা বলেন, 'কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান বা রিক্সাচালকসহ' নিম্নবিত্তের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে. 10 বছর পূর্বে একজন কৃষি শ্রমিক তার দৈ নিক মজুরি দিয়ে বড় জোর 3 কেজি চাল কিনতে পারতেন. এখন তিনি 10 কেজি চাল কিনতে পারেন. সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা বিগত 10 বর্যার করুন

সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতাও সমহারে বেড়েছে. যেমন পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন 1600 টাকা থেকে 5 গুণ বৃদ্ধি পেয়ে 8 হাজার টাকা হয়েছে.

কৃষিজীবীদের সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে.

ব্যবসায় এবং শিল্প-বান্ধব পরিবেশ সধধ্টির মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে অন্যদিকে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারিত হয়েছে. যার সুবিধা সাধারণ জনগণ পাচ্ছেন.

পদ্মাসেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়কগুলোকে চার-লেনে উন্নীতকরণসহ মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের বর্তমান সরকারের উপর আস্থা জন্মেছে.

বিএনপি থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষ জোট বিএনপির পরাজয়ের বহুবিধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা.

শেখ হাসিনা বলেন, 'এক আসনে 3-4 জন বা তার বেশি প্রার্থি মনোনয়ন; মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ এবং দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন; নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন – সম্বার্যার সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেলে কে প্রধা প্রোনমন্ত্রী হবেন – সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এসব কারণে বিএনপির পরাজয় হয়েছে.

শেখ হাসিনা বলেন, 'নিজেরা জনগণের জন্য কী করবে', সে কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে. অপরদিকে ক্ষমতায় গেলে আমাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেবে তাদের প্ররারণায় তা প্রাধান্য পেয়েছে. সোসাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ছাড়া নিজেদের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরতে পারেনি.

প্রধানমন্ত্রী বলেন, '২013 থেকে ২015 সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী অগ্নি-সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি. সর্বোপরি, বিএনপি'র ধানের শীষ মার্কায় যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতাদের মনোনয়ন তরুণ ভোটাররা মেনে নিতে পারেনি. তরুণেরা আর যাই হোক স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তির পক্ষ নিতে পারে না. এ রকম আরও বহু উদাহরণ দেওয়া সম্ভব, যার মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে যে সাধারণ ভোটারগণ বিএনপি'র দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং নৌকার অনুকূলে এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল. '

দায়িত্ব-কর্তব্য বেড়েছে
ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং 1996 সাল থেকে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন. আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে.

তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়. আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি. ২ 008 এবং ২014 সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতি শ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি.

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা' সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ 'শ্লোগান সংবলিত নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা করেছি. ইশতেহার ঘোষণাকালে আমনার সামনে তুলে ধরেছিলাম. আপনারা অনেকেই এই দলিল টি ইতোমধ্যে পড়েছেন. আমি আপনাদের করতে চাই যে, আমাদের যেকোন নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে.

শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, 'মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ বিগত দশ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে. শুধু এশিয়ার দেশগুলোরই শীর্ষে নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশ কেও ছাড়িয়ে গেছে. বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাই বাংলাদেশকে চেনেন 'উন্নয়নের রোল মডেল' হিসেবে. আমাদের এই পথচলা মসৃণ ছিল না. শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি. যার সুফল আজ জনগণ পাচ্ছেন. এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের.

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যা দা পেয়েছে. বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২1.8 শতাংশে হ্রাস পেয়েছে যা ২005-6 সালে বিএনপি সরকারের আমলে ছিল 41.5 শতাংশ. মাথাপিছু আয় 543 মার্কিন ডলার থেকে 1 হাজার 751 ডলারে উন্নীত হয়েছে. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ 3 বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে 33 বিলিয়ন মার্কিন ডলার.

তিনি বলেন, 'বিএনপি সরকারের ২005-6 অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র 61 হাজার কোটি টাকা. যা 7.6 গুণ বৃদ্ধি করে ২018-19 অর্থবছরে আমরা 4 লাখ 64 হাজার 573 কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ 1 লাখ 73 হাজার কোটি টাকা. যার নব্বই ভাগ বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে. কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না.

'গত্যার ব্যার প্রার হার ছিল 7.86 শতাংশ. মূল্যস্ফীতি 5.4 শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে. ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রয়েছে 'বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা.

বড় দায়িত্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা
শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা. তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি.

এগুলোর মধ্যে রয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান, সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে কর্মে নিয়োগের জন্য কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং কারিগরি জ্যানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগ্র কলেজ স্থাপন করা. ইতোমধ্যে কারিগরি কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে.

আগামী পাঁচ বছরে আমরা দেড় কোটি কর্মসং স্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি. সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে 100 টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে. এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদে শি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগের জন্য আসছেন.

সারাদেশে ২ ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে. কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবাখাতসহ অন্যান্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে.

আমরা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি. বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেষখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ ফাস্ট ট্রাক মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজে গতি আনা হবে.

দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোন গ্রহণ করা হবে. দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে. ছেলেমেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে. সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয় নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে. সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে. ইন্টারনেট / তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে.

২0২0 সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ২0২0-২0২1 সালে মুজিব বর্ষ এবং ২0 ২ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করব. বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা দেশকে আর্থ-সামাজিক খাতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই. আর এর কৌশল হিসেবে আমরা ভিশন ২0 ২ 1 এবং ভিশন ২041 বাস্তবায়ন করছি.

পাশাপাশি, জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমরা 'বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২100' নামে শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি.

আমরা ইতোমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পৃক্ত করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি. অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।

সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, বৈরিতা নয়
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- আমাদের এই পররাষ্ট্র নীতিই বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের মূল হাতিয়ার। এই নীতির সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কোন সময়ের চাইতে সুদৃঢ় এবং গভীর।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তরুণেরাই দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার। তারুণ্যের সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম এবং শক্তির উপর আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। তারুণ্য মানেই বাংলা ভাষার জন্য আত্মদান, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আসাদ-মতিউর, নূর হোসেনদের রক্তদান। তারুণ্য মানেই লাল-সবুজের পতাকা- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, তারুণ্য মানেই বাঙালি এবং বাংলাদেশ।’

‘১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে আরেক বিজয়ের মাসে এ দেশের ভোটারগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি- আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য; এ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এ দেশের সাধারণ মানুষেরা যাতে ভালভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেন- তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন
‘মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন।’ আমরা ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আমরা তরুণদের শক্তি, মেধা ও মননকে সোনার বাংলা গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করব। আজকের তরুণেরাই পারবে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে।

প্রাণপণ চেষ্টা করব আস্থার প্রতিদান দিতে
নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আমি আমার মন্ত্রীসভা গঠন করেছি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম- এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

আপনারা আমার উপর আস্থা রেখে যে রায় দিয়েছেন, কথা দিচ্ছি আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব সে আস্থার প্রতিদান দিতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে চাই:

‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি-

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’


Source link